নির্যাতনের চিহ্নগুলো চিনে রাখা
নির্যাতনের চিহ্ন ও ধরন চিনতে শিখুন। সচেতনতাই প্রথম ধাপ।
মনে রাখবেন: নির্যাতন সবসময় শারীরিক হয় না। অনেক সময় এটি খুব সূক্ষ্মভাবে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। এর ফলে ভুক্তভোগীরা হয়ে পড়েন একা, নিরাপত্তাহীন ও বিভ্রান্ত। নিচে পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু সাধারণ নির্যাতনের ধরন তুলে ধরা হলো:
শারীরিক নির্যাতন
মারা, চড় মারা, ধাক্কা দেওয়া, গলা টিপে ধরা, চুল টানা বা অস্ত্র ব্যবহার করা। এটি আমাদের সামনে বেশী আসলেও অনেক সময় অন্যান্য নির্যাতনের তুলনায় কম ঘটে।
যৌন নির্যাতন
ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করা, হুমকি, ভয় দেখানো বা চাপ প্রয়োগ করা।
মানসিক নির্যাতন
অপমান করা, গালি দেওয়া, সবসময় ছোট করে দেখা, নাম ধরে বিদ্রুপ করা বা বারবার হেয় করা। এর উদ্দেশ্য হলো ভুক্তভোগীর আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা।
আর্থিক নির্যাতন
অর্থ বা সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। যেমন টাকা কেড়ে নেওয়া, চাকরি করতে না দেওয়া, বা সবকিছুর জন্য অর্থ চাইতে বাধ্য করা। এর মাধ্যমে নির্ভরশীলতা তৈরি করা হয়।
সন্তানকে ব্যবহার করা
সন্তানদের দিয়ে ভয় দেখানো বা বার্তা পাঠানো, কিংবা তাদেরকে ব্যবহার করে অপরাধবোধ তৈরি করা।
ভয় দেখানো
চিৎকার, আক্রমণাত্মক ভঙ্গি, জিনিসপত্র ভাঙচুর, বা ঘরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।
হুমকি
ভুক্তভোগীকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া, সন্তানকে কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া, কিংবা আত্মহত্যার ভয় দেখানো, এসবই নিয়ন্ত্রণের কৌশল।
পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা ব্যবহার
সঙ্গীর সাথে চাকরের মতো ব্যবহার করা, একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া, বা লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা ব্যবহার করে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
আপনার কি সাহায্য দরকার?
নির্যাতন সকল ক্ষেত্রে অন্যায়। যদি আপনার সম্পর্কে বা পরিচিত কারও জীবনে এসব আচরণ লক্ষ্য করেন, জেনে রাখুন, সহায়তা পাওয়া সম্ভব। আপনি একা নন।
গোপনীয় ও বিনামূল্যের সহায়তা পেতে পেশাদারের সাথে কথা বলুন।